সর্বশেষ

জাতীয়

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষিত হবে: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে দেশের সব নাগরিকের অধিকার, বিশেষ করে ধর্মীয় অধিকার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই; সবাই সমান অধিকারের নাগরিক।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রাজধানীতে সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার।

বক্তব্যের শুরুতে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ বহু শতাব্দীর সম্প্রীতির দেশ। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই ভূখণ্ডে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের স্বাধীনতা, মুক্তি ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে মানুষের উন্নয়ন ও বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই ছিল সেই সংগ্রামের উদ্দেশ্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক চেতনা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, একপর্যায়ে গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে না পারা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত থাকলে নাগরিকের ব্যক্তিগত, ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার আরও শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত থাকত।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি এ বিষয়ে কাজ করছেন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি অতীতে বিরোধীদলে থাকাকালে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য দেওয়া মনোনয়নের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী, মতুয়া সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করার উদ্যোগকে তিনি ‘রেইনবো স্টেট’ ধারণার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সভায় উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, এর বেশির ভাগই আগের সময়ের ঘটনা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সব ধর্মের মানুষের জীবন, সম্পদ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এর উদ্দেশ্য ছিল যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সুযোগ নিতে না পারে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ অনুভব করেন।

তিনি বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

নিজের নির্বাচনি এলাকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করা হয়েছে।

সনাতন পরিষদের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু অভিযোগ জানালেই হবে না, নিজেদের উপস্থিতিও দৃশ্যমান করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য স্মরণ করে বলেন, তিনি তাদের কখনো আলাদা করে দেখতেন না; বরং বাংলাদেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময় গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে এবং সবাইকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

তিনি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ধর্মের পরিচয়ের আগে মানুষই বড় পরিচয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করার বিরোধিতা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উগ্রবাদ ও মৌলবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন