ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরানই থাকবে প্রধান আলোচনায়: নেতানিয়াহু
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ ৬:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরান ইস্যু। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দৃঢ় অবস্থান ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত—দুই-ই প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে একাধিক বিষয় থাকলেও ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিধি আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে।
এটি চলতি মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই নেতার অষ্টম বৈঠক। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন। তেহরানও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে তারাও নতুন করে আক্রমণ চালাবে না। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে ইরানের যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের বিষয়ও সামনে এসেছে। জুন মাসে দুই নেতার মধ্যে হওয়া এক টেলিফোন আলাপকে ঘিরে উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হয়। পরে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, ওই আলোচনায় তিনি নেতানিয়াহুর কিছু অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন।
অন্যদিকে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন কিছু পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজায় একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আওতায় দক্ষিণ লেবানন থেকে কিছু সেনা পুনর্মোতায়েনের ঘোষণাও দেয় ইসরায়েল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তা তুলে ধরা নেতানিয়াহুর জন্য কেবল কূটনৈতিক নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে তাঁর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে