ময়মনসিংহ মেডিকেলে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর প্রমাণ মেলেনি
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হলেও পদদলিত হয়ে কেউ মারা যাননি বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও তাঁদের মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে পাঁচজনের মৃত্যুর তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। অন্য দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার।
এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের রেজিস্টার পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, কর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যে পাঁচজন মারা গেছেন বলে বলা হচ্ছে, তাঁদের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকেরা রিপোর্টে বিস্তারিত বলতে পারবেন।’ এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কারও অনিয়ম বা দায় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় মো. রমজান আলী ও কুলছুমা বেগম স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি নষ্ট লিফট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হন।
হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতালের আনসার ও পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক ধারণা, সিগারেটের আগুন অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে