শিক্ষার্থীকে মারধরে রেললাইন অবরোধ, রাজশাহীর ট্রেন বন্ধ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ৪:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রেললাইন অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অভিযুক্ত টিটিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীনের অভিযোগ, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার পথে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক টিটি কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে টিকিট ইস্যু না করে অর্থ নিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি আপত্তি জানালে তাঁর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
ফোরকান উদ্দীনের দাবি, ঘটনার সময় তাঁর চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি আহত হন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত প্রায় ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। পাশাপাশি রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, অভিযুক্ত টিটির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান তাঁরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
রাকসুর নেতারাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে না।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত টিটি সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অবরোধের খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৪২ বার পড়া হয়েছে