সর্বশেষ

জাতীয়

মতপার্থক্য হলেও বিভেদ নেই, ঐক্য ধরেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন: প্রধানমন্ত্রী 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ৩:৫৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকার ও শরিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে কোনো বিভেদ নেই। ৩১ দফা ও জুলাই সনদের আলোকে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ‘গুপ্ত বাহিনী’ উল্লেখ করে নির্বাচনের আগে ও পরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগও তোলেন।

প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির শরিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও তার শরিক দলগুলো দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ছিল। আন্দোলনের সময় যাদের দেখা যায়নি, তাদের একটি অংশ পরে সক্রিয় হয়ে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তারেক রহমানের ভাষ্য, ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের কর্মপরিকল্পনা এখন শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, বরং জনগণেরও কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে লক্ষ্য এক হওয়ায় শরিকদের মধ্যে বিভেদের সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি সবার আগে পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সরকার ও শরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় অতীতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় আন্দোলনের মাঠে যাদের দেখা যায়নি, তাদের বিষয়ে জনগণও সচেতন। তাঁর দাবি, জনগণ বিএনপি ও শরিকদের ওপরই আস্থা রেখেছে এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

তারেক রহমান আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা ব্যক্তিগত আলোচনায় তাঁকে বলেছেন, ওই সরকারের সময় প্রশাসনের একটি বড় অংশে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল। তবে তিনি ওই উপদেষ্টার নাম প্রকাশ করেননি। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য সভায় উপস্থাপন করা হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ওই গোষ্ঠী দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময়কার অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতের চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব সমস্যা মোকাবিলা করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

শরিক দলগুলোর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এত দিন যেভাবে একসঙ্গে আন্দোলন করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেভাবেই একসঙ্গে চলার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি শরিক নেতাদের প্রতি ধৈর্য ধরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি জানান, এটি মূলত সৌজন্য ও মতবিনিময় সভা ছিল, কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডাভিত্তিক বৈঠক নয়।

মান্না বলেন, শরিকদের কেউ কেউ সরকারে আরও অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে শরিকদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তবে সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সেসব বিষয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং সরকারের সফলতা কামনা করলেও প্রয়োজনীয় নীতিগত প্রশ্নে তারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন।

১৫১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন