সর্বশেষ

প্রবাস

সিডনিতে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার পুনর্মিলনী

শতদল তালুকদার, সিডনি
শতদল তালুকদার, সিডনি

সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ৬:৫৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (JHAAA)-এর পুনর্মিলনী ২০২৬। দেশের বাইরে বসবাসরত জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, তাঁদের পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পারস্পরিক বন্ধন জোরদারের বার্তা উঠে আসে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সিডনির ওয়েন্টওয়ার্থভিল রেডগাম সেন্টারে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (JHAAA)-এর বহুল প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনী ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ভূমির প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘Acknowledgement of Country’ প্রদান করা হয়।

এরপর সংগঠনের প্রবীণ সদস্যদের অংশগ্রহণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আলোকেরই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।

পুনর্মিলনীতে দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি ভাগাভাগি করেন। আড্ডা, স্মৃতিচারণ ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে জগন্নাথ হলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার তুলে ধরার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমল জোয়ার্দ্দার পুনর্মিলনী সফল করতে সহযোগিতা করা সব সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও স্পন্সরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

আয়োজক কমিটির কালচারাল সেক্রেটারি শতদল তালুকদার বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। তাঁর ভাষ্য, ভৌগোলিক দূরত্ব সত্ত্বেও জগন্নাথ হলের প্রতি সবার ভালোবাসা ও বন্ধনের প্রতিফলন ঘটেছে এই পুনর্মিলনীতে।


রিইউনিয়ন কমিটির সদস্য ও অনুষ্ঠানের অন্যতম স্পন্সর বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জগন্নাথ হলের প্রধান ফটক (Main Gate), দক্ষিণ ভবন (South Building) এবং সবার পরিচিত ‘নেপালদার চায়ের টং’-এর প্রতিরূপ। এসব স্থাপনার সামনে ছবি তোলা এবং পুরোনো স্মৃতি রোমন্থনে ব্যস্ত ছিলেন অংশগ্রহণকারীরা।

সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত, নৃত্য ও বিভিন্ন পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ’-এর রানার-আপ শিল্পী মেহেদী হাসান জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। তাঁর পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত জগন্নাথ হল অ্যালামনাই সদস্যদের শুভেচ্ছা বার্তাও অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়।

পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজন, স্মৃতিচারণ, আলোকচিত্র ধারণ এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী পুনর্মিলনীর সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১৬৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
প্রবাস নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন