কুয়াকাটায় বিশাল মানববন্ধন: ট্রাকচালক হানিফ হত্যার বিচার ও ঘাতক হেলপারের ফাঁসির দাবি
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামে ট্রাকের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় নির্মমভাবে খুন হওয়া কুয়াকাটার ট্রাকচালক হানিফ ফকিরের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা। রোববার সকালে কুয়াকাটা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে শত শত পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা এই দাবি জানান। ঘাতক হেলপার বিপ্লব চন্দ্র মণ্ডলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও শ্রমিক নেতারা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ট্রাকচালক হানিফ ফকিরের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় কুয়াকাটা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘নির্যাতিত মোটর শ্রমিক একতা ঐক্য সমগ্র বাংলাদেশ’ মহিপুর থানা শাখা। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের পাঁচ শতাধিক কর্মী সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহিপুর থানা শাখার সভাপতি মো. লিটন খান। এতে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন কুয়াকাটা শাখার সভাপতি আতিকুর রহমান মিলন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা হাওলাদার। এছাড়া নিহত হানিফ ফকিরের স্ত্রী সীমা বেগম এবং তাঁর দুই সন্তান মো. ইসমাইল ও মোসা. হামিদা আক্তার মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্বামীর হত্যাকারীর ফাঁসি দাবি করেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্মস্থলে ঘুমন্ত অবস্থায় একজন নিরীহ চালককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। তাঁরা ঘটনার প্রধান আসামি বিপ্লব চন্দ্র মণ্ডলের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই রাতে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ট্রাক পার্কিং করে ঘুমিয়েছিলেন চালক হানিফ ফকির। অভিযোগ রয়েছে, ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁরই সহকারী (হেলপার) বিপ্লব চন্দ্র মণ্ডল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হানিফের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৫ জুলাই আকবরশাহ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও মূল অভিযুক্ত বিপ্লব চন্দ্র মণ্ডল এখনো পলাতক রয়েছেন।
১৫৯ বার পড়া হয়েছে