বিআরটিসিতে যুক্ত হচ্ছে ১শ' ইলেকট্রিক বাস, ৪শ' কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রথম ধাপে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিসি শাখা সম্প্রতি অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিআরটিসি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের বিভিন্ন মহানগর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণপরিবহনসেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সবুজ পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কারণে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করাকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। পাশাপাশি ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, ডিপো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের কাজও করা হবে। এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সড়ক পরিবহন বিভাগ মনে করছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণ হ্রাস, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, এর আগেও একই উদ্দেশ্যে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থ বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়নের পরামর্শ দেয়। কিন্তু বিআরটিসি জানিয়েছে, বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের চাপ সৃষ্টি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থভিত্তিক গণপরিবহন পরিচালনার ক্ষেত্রে টেকসই হবে না। তাই ২০২৬–২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্যয়ের প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে প্রয়োজন হবে ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ ও স্পেয়ার পার্টস কেনার জন্য ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, নিবন্ধন ও অন্যান্য খাতে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপো উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।
বিআরটিসির মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থার বিস্তার ঘটবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং যাত্রীরা আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই পরিবহনসেবা পাবেন।
১২৯ বার পড়া হয়েছে