উৎসে কর তদারকিতে কঠোর এনবিআর
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি প্রবেশসহ কর কর্মকর্তাদের ৫ বিশেষ ক্ষমতা
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ১:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
উৎসে কর যথাযথভাবে কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার আওতায় কর কর্মকর্তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, হিসাবপত্র ও ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নথি জব্দসহ পাঁচ ধরনের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দেশজুড়ে উৎসে কর (উইথহোল্ডিং ট্যাক্স) যথাযথভাবে কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে বিশেষ টিম গঠন করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার আওতায় কর কর্মকর্তাদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব ক্ষমতার মাধ্যমে উৎসে কর কর্তন, পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা কার্যকরভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, কর কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, ব্যবসাকেন্দ্র কিংবা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, রসিদ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব করার ক্ষমতাও থাকবে তাদের।
ডিজিটাল তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও কর কর্মকর্তারা কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা করতে পারবেন। প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন অপসারণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তথ্যে প্রবেশের ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।
উৎসে কর কর্তনের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করে নিজস্ব হেফাজতে রাখার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের।
এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নথি, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের অনুলিপি সংগ্রহের পাশাপাশি শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর আরও জানায়, রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাধা সৃষ্টি করলে বা অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনবিআরের ভাষ্য, উৎসে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনানুগ পরিপালন নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতেই এ তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে