সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যা মামলা: একটি মোবাইল ফরেনসিকেই খুলল রহস্যের জট
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ৯:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেনের সন্ধান মিলেছে। একটি মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ, যোগাযোগের তথ্য এবং পুরোনো নথির সূত্র ধরে গোয়েন্দারা তার অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত মেজর মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন (অব.) দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন আত্মগোপনে। সাড়ে চার দশক পর তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের একটি পুরোনো অধ্যায় আবারও সামনে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। ওই বিশ্লেষণে পাওয়া কিছু যোগাযোগের তথ্য থেকে মেজর মোজাফফরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়।
প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর গোয়েন্দারা জানতে পারেন, মোজাফফরের সঙ্গে কয়েকজনের যোগাযোগ ছিল। পরে একটি মোবাইল অপারেটরে কর্মরত তার এক স্বজনের সূত্র ধরে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
এরপর গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকায় তার চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিল। তবে মুখের গড়ন ও নাকের নিচে থাকা জন্মগত একটি বিশেষ চিহ্নের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হামলায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামরিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর সামরিক আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সেই বিচারে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও মেজর মোজাফফর আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় মেজর মোজাফফরের নাম ছিল। ১৯৮১ সালের ১ জুন চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার আসামির তালিকায় তাকে ছয় নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে ঘটনার পর সেনাবাহিনী তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করায় পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম আর এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হলেও দীর্ঘ সময় পর ২০০১ সালে সাক্ষ্য ও প্রমাণের অভাব দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
দীর্ঘ আত্মগোপনের সময় মেজর মোজাফফর দেশের বাইরে অবস্থান করেছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। পরিচয় গোপন রাখতে তিনি ভিন্ন নাম ও কাগজপত্র ব্যবহার করেছিলেন বলেও জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মেজর মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেনকে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৬৩ বার পড়া হয়েছে