ছবি ভাইরাল
যাকে কোলে নিয়ে ঘুরেছেন তার সাথেই ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন মেসি
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৬:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপের ফাইনাল সব সময়ই নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয়। তবে ২০২৬ সালের আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন আবেগ। কারণ, এই ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছেন ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা লিওনেল মেসি এবং প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামা তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। দুই ফুটবলারের বয়সের ব্যবধান ২০ বছর, আর সেই ব্যবধানকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে ২০০৭ সালের একটি বহুল আলোচিত ছবি।
ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের নাম এখন দুটি ভিন্ন প্রজন্মের প্রতীক। একজন দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়া কিংবদন্তি, অন্যজন ভবিষ্যতের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই তাই দুই প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বও করছে।
এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০০৭ সালের একটি ছবি। সে বছর বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ সংবাদপত্র স্পোর্ট ইউনিসেফের জন্য তহবিল সংগ্রহে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুট আয়োজন করেছিল। সেখানে অংশ নেন তরুণ লিওনেল মেসি। ফটোশুটের এক পর্যায়ে মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু লামিন ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করানোর একটি ছবি তোলা হয়। বহু বছর পর সেই ছবিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রায় ১৮ বছর পর সেই ছবির দুই চরিত্র এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিপক্ষ। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী মেসি, যার এটি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে সদ্য ১৯ বছরে পা রাখা ইয়ামাল, যিনি খেলছেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির নতুন মালিক হন ইয়ামাল। এই জার্সি দিয়েই ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ১৭ মৌসুমের ক্যারিয়ারে তিনি ৬৭২ গোল করে ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখেছেন।
বর্তমান বিশ্বকাপে অবশ্য স্পেনের হয়ে ১৯ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন ইয়ামাল। কাকতালীয়ভাবে ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত নিজের প্রথম বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯ নম্বর জার্সি পরেছিলেন মেসি। তখন অবশ্য ইয়ামালের জন্মই হয়নি।
চলতি আসরে দুজনই নিজেদের সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। ইয়ামাল গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এবং এই কীর্তি তিনি গড়েছেন মেসির চেয়েও কম বয়সে।
অন্যদিকে মেসি নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।
সব মিলিয়ে রোববারের ফাইনাল শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ নয়। এটি এমন একটি প্রতীকী মুহূর্ত, যেখানে একসময় কোলে নেওয়া শিশুই আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কিংবদন্তি মেসির প্রতিপক্ষ।
১৫৮ বার পড়া হয়েছে