আবু সাঈদের আত্মত্যাগে বদলে গিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৭:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
১৬ জুলাই ২০২৪—বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। সেই দিনের ঘটনায় নিহত অন্যদেরও স্মরণে এবার প্রথমবারের মতো ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর সমন্বয়ক আবু সাঈদ। ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
এর আগের দিন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ১৬ জুলাই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দিনের বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
রংপুরের ঘটনার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, ঢাকা ও অন্যান্য এলাকাতেও সহিংসতায় কয়েকজন নিহত হন। চট্টগ্রামে সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ছিলেন ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুক। ঢাকার সায়েন্স ল্যাব ও ঢাকা কলেজসংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষের সময় নিহত হন সবুজ আলী ও মো. শাহজাহান। এসব প্রাণহানার পর আন্দোলনের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে এবং কেবল কোটা সংস্কারের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে জবাবদিহি ও সহিংসতার বিচারও আন্দোলনের অন্যতম দাবি হয়ে ওঠে।
আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আন্দোলনের একটি বহুল আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়। তাঁর মৃত্যুর পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পায় এবং আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে।
এদিকে ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকর্যালি, স্মরণসভা, দোয়া ও শহীদ আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও স্মরণসভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, দিবসটি ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে