পটুয়াখালীতে তলিয়ে গেছে ৯৭০ হেক্টর আমনের বীজতলা, অনাবাদী থাকার শঙ্কায় জমি
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের সঙ্গে টানা ভারী বর্ষণে পটুয়াখালীতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। এতে জেলার রোপা আমনের বীজতলাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চরম লোকসানের আশঙ্কার পাশাপাশি আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে পটুয়াখালী জেলার রোপা আমনের অধিকাংশ বীজতলা এখন কোমর সমান পানির নিচে। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন মৌসুমী ফসলের খেত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পটুয়াখালীর প্রায় ২ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস এবং কলাপাড়া রাডার স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের পর রোববার ভোর থেকে জেলায় আরও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। আবহাওয়ার তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীতে ১০০ মিলিমিটার এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় মোট ২৩৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, এই বৈরী আবহাওয়া আরও অন্তত দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে, নদী ও ফসলের মাঠ একাকার হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারের মূল চাহিদা মেটায়। কিন্তু সবজি খেত ও আমনের বীজতলা দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় বীজ পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে শত শত একর জমি অনাবাদী থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আমানুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বন্যায় প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
১১৭ বার পড়া হয়েছে