সর্বশেষ

সারাদেশ

গলাচিপায় শিক্ষিকা দীপা রানীর রহস্যজনক মৃত্যু: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে উত্তাল উলানিয়া

মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, পটুয়াখালি
মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, পটুয়াখালি

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্কুল শিক্ষিকা দীপা রানী দাসের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে উলানিয়া। বিক্ষুব্ধ সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সোমবার এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক নির্যাতনের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
মানববন্ধন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সাধারণ মানুষ। মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা উলানিয়া বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহফিজুর রহমান। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীপা রানী দাস অত্যন্ত সৎ ও দায়িত্বশীল একজন শিক্ষক ছিলেন। তার মতো একজন মানুষ সহজে আত্মহত্যা করতে পারেন না। একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন সহকর্মীরা।

কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. এমদাদ হোসেন জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীপার ওপর নির্যাতন চালাতেন। বেশ কয়েকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ইতিপূর্বেও একবার পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।

মানববন্ধনে উপস্থিত দীপা রানীর বড় বোন রাসমনি দাস অভিযোগ করেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্বামী সব্যসাচী সরকার বিয়ের পর থেকেই দীপার ওপর নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

নিহত দীপা রানী দাস পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রণগোপালদী গ্রামের সব্যসাচী সরকারের স্ত্রী এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। গত ৯ জুলাই রাতে দশমিনার স্বামীর বাড়ি থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক আলামত দেখে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন