সর্বশেষ

সারাদেশ

বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ৬:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভারতের গজলডোবা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ভারতের উজানে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও গজলডোবা ব্যারাজ থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা এ পয়েন্টের বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার বেশি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি আরও কিছু সময় উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরেই তিস্তার পানি ওঠানামা করছিল। তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢলের কারণে বুধবার থেকে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এরই মধ্যে চরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক, ফসলি জমি এবং নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চলে শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানির চাপ আরও বাড়লে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় অনেক বাঁধ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নদীপাড়ের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হয় না।

গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করলেও বৃহস্পতিবার পানির বৃদ্ধি ছিল বেশি। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়তে পারে। তখন শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। পাশাপাশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি রক্ষা করাও কঠিন হয়ে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বন্যার স্থায়িত্ব বাড়তে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানির চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে এবং উজানের পানি কমা-না-কমার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন