কক্সবাজারের এনজিওতে স্থানীয়দের ৬০ শতাংশ চাকরির দাবি এমপি কাজলের
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ৮:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিওগুলোতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর (হোস্ট কমিউনিটি) জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে দেওয়া এক ডিওপত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের অন্তত ৬০ শতাংশ পদে স্থানীয়দের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওতে স্থানীয় জনগণের নিয়োগ, পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের নিম্নপদে রাখা হয়, আর গুরুত্বপূর্ণ পদে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ত্রাণ বিতরণ ও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমেও বৈষম্যের অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে।
এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বুধবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবস্থিত এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংসদ সদস্য আলহাজ লুৎফুর রহমান কাজল। সাক্ষাতে তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং একটি ডিওপত্র হস্তান্তর করেন।
ডিওপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব সংস্থা শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত নানা চাপের মুখে রয়েছে। তাই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এমপি কাজল তাঁর আবেদনে কক্সবাজারের যোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষিত স্থানীয়দের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৬০ শতাংশ পদে হোস্ট কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, হোস্ট কমিউনিটির ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও গ্রহণযোগ্য ও টেকসই হবে।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য, কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তাঁদের আয় বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং সামাজিকভাবে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এনজিওতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন হলে বৈষম্যের অভিযোগও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১১৪ বার পড়া হয়েছে