বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের প্রভাব: কলাপাড়ায় টানা বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৭:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের কারণে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলসহ কলাপাড়ায় টানা ৬ দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এই অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে উপকূলের মৎস্য চাষী, কৃষক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মোট ৮২ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে কলাপাড়া উপজেলার নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ ও শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় মৎস্য ও বর্ষাকালীন সবজি চাষীরা। পানিতে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত মাছের ঘের ও পুকুর। মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এছাড়া খেটে খাওয়া ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষেরা তীব্র কর্মসংস্থানে সংকটে ভুগছেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে যেকোনো সময় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে পটুয়াখালীর পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার সব ট্রলার ও নৌকাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী জানান, ভারী বর্ষণে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। এরই মধ্যে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বেশ কয়েকটি মাছধরা ট্রলার ও জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা উপকূলীয় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে