কক্সবাজারে পাহাড়ধসে আরও একজনের মৃত্যু, এক রাতেই নিহত বেড়ে ৯
সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারে টানা অতি ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হন। এক রাতে জেলায় পাহাড়ধসে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোর চারটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে সর্বশেষ আলী আকবর (৪৫) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চত করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধসের সময় আলী আকবরসহ তাঁর পরিবারের তিন সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুই সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতিগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এর আগে রোববার দিবাগত রাত একটার পর থেকে ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়।
জামতলী আশ্রয়শিবিরের একটি ব্লকে পাহাড়ধসে একটি পরিবারের তিন সদস্য—কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪)—নিহত হন। একই ঘটনায় পরিবারের আরও দুজন আহত হয়েছেন।
কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে আরেকটি ঘটনায় সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বালুখালী আশ্রয়শিবিরে পৃথক পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে আশ্রয়শিবিরজুড়ে এখনও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের ঢালে নির্মিত আশ্রয়গুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছেন। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এসব এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানির ঘটনা সামনে আসছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার দুপুর থেকে কক্সবাজারে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী আরও দুই দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে