সর্বশেষ

সারাদেশ

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নামতেই ভেসে উঠছে ফসলের ক্ষত, দিশেহারা কৃষকেরা

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ ৭:৪৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও রেখে যাচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। বানের জল সরতেই নদী অববাহিকার মাঠজুড়ে ভেসে উঠছে নষ্ট হওয়া ফসলের ক্ষতচিহ্ন, যা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। জেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৫০০ হেক্টর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানির উপরে ভাসছে নষ্ট হওয়া ফসল

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর পানি হ্রাস পেতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতির এই উন্নতি স্থানীয় কৃষকদের জন্য বয়ে নিয়ে এসেছে চরম হতাশার খবর। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর অববাহিকা ও চরাঞ্চলের মাঠগুলোতে জেগে উঠছে ধ্বংসপ্রাপ্ত ফসলের চিত্র। কাদা আর পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে পচে গেছে বিঘার পর বিঘা জমির আবাদ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তালিকা তৈরির কাজ চালাচ্ছেন। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার ভুক্তভোগী চাষি আব্দুল লতিফ জানান, ধারদেনা করে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বন্যার করাল গ্রাসে তার সমস্ত আবাদি জমি পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে গেছে। লোকসানের বড় ধাক্কা সামলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই এলাকার আরেক কৃষক আবু জানান, বেগুন ও পটলের ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাষ শুরু করার মতো কোনো পুঁজি অবশিষ্ট নেই তার।

এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের পুনর্বাসনে বিকল্প ফসল চাষের পরামর্শ দিয়েছেন কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে কৃষকেরা যাতে দ্রুত মরিচ, বেগুন, শসা ও শাকজাতীয় আগাম ফসল চাষ করতে পারেন, সে ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া লাভজনক বিকল্প হিসেবে মাসকলাই চাষের বড় সুযোগ রয়েছে। নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় এবার উঁচু জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

দুর্দশায় পড়া কৃষকেরা সরকারের কাছে দ্রুত সার, উন্নত মানের বীজ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সময়মতো সরকারি প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা না পেলে চলতি মৌসুমে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন