পাঠাগারেই বদলাতে পারে সমাজ: সিংড়ায় সামাজিক অবক্ষয়রোধে সেমিনার
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ৯:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সামাজিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি ও কিশোর অপরাধের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে বই ও পাঠাগারকে সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে মাগুরার শালিখা উপজেলার সিংড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী সেমিনার। ‘সামাজিক অবক্ষয়মুক্ত সমাজ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে লাইব্রেরির ভূমিকা’ শীর্ষক এ আয়োজনে শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক সংগঠক ও বিভিন্ন জেলার সামাজিক লাইব্রেরির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মাগুরার শালিখা উপজেলার প্রত্যন্ত সিংড়া গ্রামে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় ‘সামাজিক অবক্ষয়মুক্ত সমাজ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে লাইব্রেরির ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনার। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সমাজে পাঠাগারের গুরুত্ব, তরুণ প্রজন্মের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সেমিনারে উদ্যোগ নেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম বিশ্বাস। ছুটিতে নিজ গ্রামে এসে তিনি স্থানীয় মানুষকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন। বক্তারা বলেন, অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় উঠে আসে, একটি লাইব্রেরি শুধু বই সংরক্ষণের স্থান নয়; এটি চিন্তা, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনের কেন্দ্র। শিশু-কিশোরদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে তারা যুক্তিবাদী, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে অনেক তরুণের সময়ের বড় অংশ মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটছে। তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হলেও গভীর পাঠ ও বিশ্লেষণী চিন্তার চর্চা তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রামভিত্তিক ছোট ছোট পাঠাগার গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
গৌতম বিশ্বাস বলেন, তৃণমূলের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার জন্য এ ধরনের সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমস্যাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারলে কার্যকর সমাধানের পথও সহজ হয়। আর সে ক্ষেত্রে পাঠাগার হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
অনুষ্ঠানে মাগুরা, যশোর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের ১৫টি সামাজিক লাইব্রেরির পরিচালক, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং সমাজসচেতন ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিক উদ্যোগও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাঠাগারভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সচেতন ও মানবিক হয়ে উঠবে।
সেমিনারে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী। বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক এটিএম আনিসুর রহমান, প্রকৌশলী সম্পা বসু, শিক্ষক শাহিনুর রহমান, ডা. রমেশ বিশ্বাস, প্রভাষক রমেশ চন্দ্র বাইনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে কার্যকর পাঠাগার গড়ে উঠলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার সংস্কৃতি বিকশিত হবে। একই সঙ্গে মাদক, কুসংস্কার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতন ও শিক্ষিত সমাজ গঠনে পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১১৫ বার পড়া হয়েছে