সাতক্ষীরায় নির্দেশনা লঙ্ঘন করে প্রাথমিকের পরীক্ষা, অর্থ আদায়ের অভিযোগ
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই পরীক্ষা আয়োজনের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। নিয়ম অনুযায়ী নিজস্ব প্রশ্ন তৈরির বিধান থাকলেও স্থানীয় শিক্ষা অফিসের এমন সিদ্ধান্তে প্রশ্ন ফাঁসেরও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে এই নির্দেশিকা উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের জন্য একই প্রশ্ন প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি পরিপত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরীক্ষা আয়োজনের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৬ টাকা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এই বিশাল অংকের টাকার কোনো স্বচ্ছ হিসাব বিদ্যালয়গুলোকে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিক্ষকদের স্বাধীনভাবে প্রশ্নপত্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হলেও শিক্ষা কর্মকর্তা তা নাকচ করে দেন। শিক্ষকরা মনে করছেন, নিজস্ব উদ্যোগে প্রশ্ন প্রণয়নের সুযোগ না দিলে মানসম্মত প্রশ্ন তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা ও আগ্রহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। এছাড়া পরীক্ষার পাঁচ দিন আগেই প্রশ্ন বিতরণের কারণে ফাঁসের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান দাবি করেন, শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতেই অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিপত্রে এমন নিয়ম রয়েছে বলে তিনি দাবি করলেও কোনো স্পষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে