লক্ষ্মীপুরে চার খুন: গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনায় দাফন সম্পন্ন
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ৬:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন বোনের লাশ নিয়ে কুমিল্লায় নিয়ে গেছেন একমাত্র বেঁচে যাওয়া কিশোর জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। হোমনার লটিয়ায় গ্রামে লক্ষীপুরে খুন হওয়া একই পরিবারের মা মেয়েসহ ৪ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রায়পুর থানায় ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১০ টায় লটিয়া ঈদগাহ মাঠে জানাজায় শেষে তাদের দাফন করা হয়। লক্ষ্মীপুরে প্রথম জানাজা শেষে চারটি মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়ি হোমনার লটিয়ায়, তুমি আছো গ্রামের বাড়ি হোনার লুটিয়ায়। এদিকে রাত ১০টায় কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার লটিয়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা শামসুল হক।
এসময় জানাযার নামাজে এলাকার দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ শত- শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন । এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতি তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বক্তারা সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের সুস্থ তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করার দাবী জানান। জানাজা শেষে তাদেরকে হোমনা পটিয়া গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি সমাহিত করা হয়।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শাহীনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২১), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপাকে (১০)। নিহতদের আদি বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা রায়পুরে বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কামাল হোসেন মারা যাওয়ার পর থেকে শাহীনুর বেগম সন্তানদের নিয়ে কঠিন জীবনসংগ্রাম চালিয়ে আসছিলেন।
ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে রায়পুরে লাশগুলো আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ধানহাটা এলাকায় তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে চোখের জলে লাশবাহী গাড়িটি কুমিল্লার উদ্দেশে বিদায় জানায় উপস্থিত সকলে।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক অরুপ রায় জানিয়েছেন, নিহতদের মাথায়, বুকে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় নিহত শাহীনুরের একমাত্র জীবিত ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর চেষ্টা করার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ করেছে এবং ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত জোরদার করেছে।
১৪০ বার পড়া হয়েছে