মানবিকতার অনন্য নজির: ১০৯তম অসহায় মেয়ের ধুমধাম বিয়ে দিলেন রুহুল আমিন
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ৩:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এক অসহায় ও পিতৃহীন তরুণীর বিয়ের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করে ফের আলোচনায় এসেছেন নাটোরের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে এভাবেই নিজ খরচে ১০৯ জন হতদরিদ্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগে ধুমধাম করে চার হাত এক হলো রাবেয়া ও পারভেজের।
লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের মৃত দিনমজুর জালাল মোল্যার মেয়ে রাবেয়ার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর থেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছিল পরিবারটি। আট বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রাবেয়ার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা হেনা বেগম ঋণ নিয়ে এবং অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ মেয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় একসঙ্গে এত মানুষের আপ্যায়নের খরচ জোগানো তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
এ সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন রুবেল। তিনি মূলত লক্ষ্মীপাশা পল্লী প্রগতি সহায়ক সমিতির ম্যানেজার নূর মোহাম্মদের মাধ্যমে এই পরিবারের সংকটের কথা জানতে পারেন। এরপর রাবেয়ার বাড়িতে ছুটে গিয়ে বিয়ের যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাস দেন এবং নিজের মেয়ের মতো করে ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করেন।
২৫ জুন জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়েতে বরযাত্রীসহ প্রায় দেড়শত মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। হলুদ সন্ধ্যা, গান-বাজনাসহ বিয়ের সমস্ত রীতিনীতি আনন্দের সাথে পালন করা হয়। রুহুল আমিন রুবেল জানান, রাবেয়া তাঁর ১০৯তম কন্যা। ২০০২ সাল থেকে তিনি এভাবেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসচ্ছল ও এতিম মেয়েদের নিজের কন্যা মনে করে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়ে আসছেন।
মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর আবেগাপ্লুত মা হেনা বেগম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানান এবং রুহুল আমিনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এদিকে, এমন মহতী উদ্যোগের কারণে রুহুল আমিন রুবেল ওই এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন। সমাজের বিত্তবানদেরও এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১৪৯ বার পড়া হয়েছে