দিনাজপুরের ‘লাল অর্থনীতিতে’ নীরব ধস: উৎসবের আড়ালে ৭০ কোটি টাকার ক্ষতি
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ ৭:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
উত্তরের জেলা দিনাজপুরে লিচুর বাম্পার ফলন ও উৎসবমুখর বেচাকেনার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিরাট লোকসানের চিত্র। প্রতিকূল আবহাওয়া, অনুন্নত পরিবহন ও আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাবে প্রতি বছর প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকার লিচু নষ্ট হচ্ছে। ফলে লিচুর ‘লাল অর্থনীতি’ চাঙ্গা দেখালেও প্রান্তিক চাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন।
উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ফল লিচুকে ঘিরে প্রতি বছরই দিনাজপুরে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় এবার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফজাল হোসেনের মতে, তীব্র তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে অনেক গাছে কাঙ্ক্ষিত মুকুল আসেনি, ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দিনাজপুরে উৎপাদিত মোট লিচুর প্রায় ১৫ থেকে ১৭ শতাংশই ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। টন হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪০০ থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন। প্রতি কেজি লিচুর গড় বাজারমূল্য ৮০ থেকে ১০০ টাকা হিসেবে এই নষ্ট হওয়া ফলের আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা।
স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবই এই বিশাল লোকসানের মূল কারণ। চাষি জয়নুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত গরমে গাছ থেকে লিচু ঝরে পড়ার পাশাপাশি অনুন্নত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে বাজারে পৌঁছানোর আগেই তা পচে যায়। ব্যবসায়ী আজিজুর রহমানও এই দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বলেন, উপযুক্ত হিমাগার থাকলে এই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।
দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক এই সংকট উত্তরণে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, জেলায় একটি আধুনিক লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং উন্নত বিপণন অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় উৎসবের আমেজ থাকলেও প্রতি বছরই চাষিদের বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান গুণতে হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে