সর্বশেষ

সারাদেশ

পটুয়াখালীতে ড্রাগন চাষে তরুণ সৌরভের বাজিমাত, বছরে আয় লাখ লাখ টাকা

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কুয়াকাটা
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কুয়াকাটা

সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ৯:১১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুরে কৃত্রিম আলো বা লাইটিং প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারে বারো মাস ড্রাগন ফল উৎপাদন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সৌরভ কুমার বিশ্বাস। মাত্র ১২টি ডাল দিয়ে শুরু করা এই চাষ এখন পরিণত হয়েছে দুই বিঘার এক বিশাল ড্রাগন সাম্রাজ্যে, যা থেকে প্রতি বছর আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিতেই স্বাবলম্বী হওয়ার এই গল্প এখন অনুপ্রাণিত করছে স্থানীয় বেকার যুবকদের।
তরুণ সৌরভের ড্রাগন চাষ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত তুলাতলী গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম সৌরভ কুমার বিশ্বাসের। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০১৮ সালে মাত্র ১২টি ড্রাগন কাটিং সংগ্রহ করে বাড়ির পাশে শখের বশে রোপণ করেন তিনি। ২০২২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর স্বপ্ন ছিল পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার। তবে ভাগ্য অনুকূলে না থাকায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আর তখনই চাকরি খোঁজার পেছনে সময় নষ্ট না করে কৃষিকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন এই তরুণ।

২০২৩ সালে বাবা স্বপন কুমার বিশ্বাসের সহযোগিতা নিয়ে বড় পরিসরে ড্রাগন চাষ শুরু করেন সৌরভ। বর্তমানে প্রায় দুই বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের বাগান। তার এ বাগানে ইলোরা, পালোরা, রেড ভেলভেট, বোল্ডার এবং থাই রেডসহ নানা উন্নত জাতের প্রায় দুই হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে। পরিচর্যা আর আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রতিটি গাছেই এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে ড্রাগন ফল।

সৌরভের এই চাষাবাদের মূল আকর্ষণ হলো অফ-সিজন বা অসময়ে ফল উৎপাদন করা। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ড্রাগন ফলের মৌসুম হলেও তিনি কৃত্রিম আলোর (লাইটিং প্রযুক্তি) ব্যবহার করে বছরের ১২ মাসই ফল উৎপাদন করছেন। অসময়ে বাজারে ড্রাগনের চড়া দাম থাকায় সৌরভের আয়ও বেড়েছে কয়েক গুণ। বর্তমানে এই বাগান থেকে বছরে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে।

সৌরভের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন তার বাগানে। স্থানীয় কলেজের প্রভাষক মো. ঈদুর রহমান এই উদ্যোগকে একটি ‘স্বপ্নরাজ্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, শিক্ষিত তরুণরা যে কৃষিতেও সফল হতে পারে, সৌরভ তার বাস্তব প্রমাণ। অন্যদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও সৌরভের দেখাদেখি ড্রাগন চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, সৌরভ কলাপাড়ার কৃষকদের জন্য একজন অনুকরণীয় মডেল। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে অসময়ে ড্রাগন চাষ করে সে সফল হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে এবং এই অঞ্চলের অন্য কৃষকদের সব ধরণের কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন