ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে জোর গুঞ্জন
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ৪:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন—এমন জোর গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। তবে স্টারমারের কার্যালয় এসব খবরকে এখনো ‘জল্পনা’ বলে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম অবজারভারের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্টারমার আগামী সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন এবং ক্ষমতা ছাড়ার সম্ভাব্য সময়সূচিও প্রকাশ করতে পারেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্য, লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা, ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং দলের দাতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পর স্টারমার উপলব্ধি করেছেন যে তার পক্ষে বর্তমান নেতৃত্ব ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে এখনো তিনি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি। খবরে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন তিনি। যদিও লেবার পার্টির অনেক নেতার ধারণা, সোমবার এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থান জানাতে পারেন।
এদিকে সাম্প্রতিক একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর সাবেক মন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংসদ সদস্য এখন বার্নহ্যামের নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বার্নহ্যামের সমর্থকদের দাবি, ৪০০-এর বেশি আসনবিশিষ্ট লেবার পার্টিতে ২০১ জনেরও বেশি এমপি তার পক্ষে রয়েছেন। এর ফলে স্টারমারের নেতৃত্ব আরও চাপে পড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করছেন, আগামী জাতীয় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লেবার পার্টির নেতৃত্বে দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বার্নহ্যাম নেতৃত্বের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।
তবে স্টারমারের কার্যালয় এসব আলোচনা ও পদত্যাগের গুঞ্জনকে এখনো নিশ্চিত করেনি। কয়েক দিন আগেও স্টারমার প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তিনি দলের নেতৃত্বে থাকতে চান এবং তার ‘আরও অনেক কাজ বাকি’ রয়েছে।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির অন্যতম বড় সমর্থক শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটের প্রধান শ্যারন গ্রাহাম বলেছেন, দলের নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল পরিবর্তন আনার সময় এসেছে এবং স্টারমারের সরে দাঁড়ানো উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। তবে স্টারমারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে