বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের বিদায়: এক যুগের অবসান
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ৭:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য নাম আবদুস সাদেক আর নেই। ফুটবল ও হকি—দুই ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব, সংগঠন এবং ক্রীড়াবিদ হিসেবে যিনি সমানভাবে আলো ছড়িয়েছেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। আবদুস সাদেক ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়া আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবক, যার অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
বাংলাদেশের ফুটবল ও হকি ইতিহাসে আবদুস সাদেক ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রতীক। ১৯৭২ সালে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বগুণের প্রকাশ ঘটে, যেখানে তিনি ফুটবল ও হকি—উভয় দলে প্রথম অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রথম অধিনায়ক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে স্থান করে নেন।
খেলোয়াড়ি জীবনের পরও তাঁর অবদান থেমে থাকেনি। কোচ ও সংগঠক হিসেবে তিনি আবাহনী ক্লাবকে ১৯৭৭ সালে ঘরোয়া ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব এনে দেন। একইসঙ্গে হকি লিগেও দলকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেন।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবাহনী ক্লাব যখন চরম সংকটে পড়ে, তখন অন্যরা সরে গেলেও আবদুস সাদেক সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তাঁর নেতৃত্বেই ক্লাবটি আবার ঘুরে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের হকি অঙ্গন যখন অব্যবস্থাপনায় ভুগছিল, তখনও তিনি সংগঠক হিসেবে সামনে এসে খেলাটিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের তিনবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি আয়োজনের পেছনে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতিও প্রকাশ করেছিলেন।
পারিবারিকভাবে ক্রীড়ামনস্ক পরিবেশে বেড়ে ওঠা আবদুস সাদেকের বাবা ছিলেন ব্রিটিশ আমলের চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু এবং পরিবারেও ছিল ক্রীড়ার গৌরবময় ঐতিহ্য।
আবদুস সাদেকের মৃত্যুতে দেশের ফুটবল ও হকি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ক্রীড়াঙ্গনের এই বাতিঘরের প্রস্থানকে অনেকেই একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন।
১১০ বার পড়া হয়েছে