বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগর: খালি হাতে উপকূলে ফিরছেন পটুয়াখালীর জেলেরা
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বৈরী আবহাওয়া ও জোয়ারের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় মাছ ধরা বন্ধ করে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার হাজার হাজার জেলে। দীর্ঘ অবরোধের পর বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে গেলেও শূন্য হাতে ফিরে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে শত শত মাছধরা ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে বাধ্য হয়েছে।
সংবাদদাতা জানান, দীর্ঘ ৫৮ দিনের ইলিশ প্রজননকালীন সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে ট্রলার ভাসিয়েছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায় আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে ওঠায় এবং জোয়ারের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবন বাঁচাতে তাদের আবার তীরে ফিরে আসতে হচ্ছে। এই আকস্মিক দুর্যোগের কারণে অধিকাংশ জেলেই আশানুরূপ ইলিশের দেখা পাননি।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বড় ট্রলারে সাধারণত ১২ থেকে ১৮ জন জেলে থাকেন। সাগরে একেকটি যাত্রার জন্য ট্রলার মালিক ও জেলেদের খাদ্যসামগ্রী, জ্বালানি তেলসহ আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বাজার সওদা করতে হয়। অধিকাংশ ট্রলারই মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে এই খরচ জোগাড় করে। মাছ না পাওয়ায় বিপুল পরিমাণ দেনার দায়ে পড়েছেন তারা।
উপকূলীয় এলাকার জেলে আজিজ হাওলাদার জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও হাত নেই। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে জেলেদের পাশাপাশি ট্রলার মালিক এবং মৎস্য ব্যবসার সাথে জড়িত সকলকেই ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়। জেলে মো. রফিক মিয়া জানান, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাদের একমাত্র ভরসা সৃষ্টিকর্তা, তবে জীবিকার তাগিদে এই পেশা আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী জানান, অবরোধ শেষ হতে না হতেই সাগরে এই বিরূপ আবহাওয়ার কারণে প্রায় সব ট্রলার ঘাটে চলে এসেছে। ফলে মাছের সরবরাহ একবারে কমে গেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মৎস্য ঘাটে কর্মচাঞ্চল্য ফেরার কোনো আশা দেখছেন না স্থানীয়রা।
১২৪ বার পড়া হয়েছে