সর্বশেষ

জাতীয়

সোশ্যাল মিডিয়া ও স্মার্টফোনে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব, উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সোশ্যাল মিডিয়া ও স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে দেশের কিশোরদের মধ্যে গ্যাং সংস্কৃতির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো কিশোরদের যোগাযোগের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠলেও কিছু ক্ষেত্রে এগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

একসময় কিশোরদের আড্ডা সীমাবদ্ধ ছিল পাড়া-মহল্লা কিংবা স্কুলের মাঠে। বর্তমানে সেই জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কিশোরদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলেও এর নেতিবাচক দিকও সামনে আসছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, গত ছয় বছরে দেশে ১ হাজার ১২৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে গ্যাং সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় করত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতা এবং অনিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অনেক কিশোর ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব তাদের সামাজিক আচরণ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপরও পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, বর্তমানে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরাও সহজেই স্মার্টফোন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভরতার কারণে কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা কমে যাওয়া, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং মূল্যবোধগত পরিবর্তনের মতো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ। এছাড়া অনেক দেশে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন শিক্ষার্থীদের মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই বেশি কার্যকর। কারণ অনলাইন শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা এবং সৃজনশীল কাজে স্মার্টফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, অনেক কিশোর-কিশোরী মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে শিক্ষা, বইপড়া, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো ইতিবাচক কাজেও যুক্ত হচ্ছে। তাই প্রযুক্তির সুফল ও কুফল উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তির ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন