কৃষিক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে মন্তব্য বাণিজ্যমন্ত্রীর
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের কৃষি খাত অনেকদূর এগিয়েছে, তবে এখনো তা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ কৃষি সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্যমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে এখনো অনেক কাজ বাকি। যেসব এলাকায় মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল, সেই এলাকাগুলোই কৃষি নেতৃত্ব দেবে—এটাই স্বাভাবিক।”
তিনি আরও বলেন, লিচু সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপন করলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে গিয়ে পণ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই দেশীয় পদ্ধতিতে লিচু সংরক্ষণের উপায় খুঁজে বের করতে গবেষণা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল কিতাব মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ঈশ্বরদীতে লিচু গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ এবং লিচু ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি জানান।
তাদের মতে, ঈশ্বরদীর মাটি লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং এখানে দেশের সর্বাধিক লিচু উৎপাদিত হয়। চলতি বছরে প্রায় ৪,৬২৪ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন। এবছর লিচু বিক্রি থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া বক্তারা দাবি করেন, পাঠ্যপুস্তকে এখনো পাবনার লিচুর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যদিও এখানে ব্যাপক উৎপাদন হয়। তারা দ্রুত পাঠ্যবইয়ে পাবনার নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
১২৭ বার পড়া হয়েছে