মামুন হত্যা : হত্যার সময় বিদেশে থাকার দাবি প্রধান আসামির
সোমবার, ১ জুন, ২০২৬ ৯:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মামুন হোসাইন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় আক্তার হোসেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছিলেন, যা তার পাসপোর্ট ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিতে প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, আক্তার হোসেন ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন এবং ২০২৬ সালের ১০ মার্চ দেশে ফেরেন। অন্যদিকে, মামুন হোসাইন ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার পূর্ব লালপুর রেললাইন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ কারণে মামলার তদন্ত ও আসামি নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আক্তার হোসেনের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড ও পাসপোর্টের তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। তার অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফতুল্লা ও কাঠেরপুল এলাকায় কিছু ব্যক্তি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন ও তার পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আক্তার হোসেন বলেন, “মামুন হত্যার সময় আমি বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হবে। তারপরও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র আমাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো মামলার তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান, ভ্রমণ রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। যদি নথিপত্রে বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তাহলে তদন্তকারী সংস্থার উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।
উল্লেখ্য, মামুন হোসাইন হত্যা মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন এবং আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে