দিল্লিতে ৫তলা ভবন ধস, উদ্ধার ১২; শতাধিক আটকা আশঙ্কা
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬ ৫:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়ে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের নিকটবর্তী সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভবন ধসের পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবনটিতে একটি মেডিক্যাল কোচিং প্রতিষ্ঠান, কয়েকটি ক্যাফে এবং বিভিন্ন করপোরেট অফিস পরিচালিত হতো। ভবনের একটি অংশে সম্প্রতি নির্মাণকাজ চলছিল বলেও জানা গেছে। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ ভবনটি ধসে পাশের একটি অস্থায়ী ক্যান্টিনের ওপর পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ক্যান্টিনে অনেক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। ভবনটি ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে ধুলোর মেঘ ছড়িয়ে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবনটি কয়েক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রতিদিনই শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত আটকে থাকতে পারেন।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক কাটার, অনুসন্ধানী ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর ব্যবহার করে আটকে পড়াদের সন্ধান করা হচ্ছে।
এদিকে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে এবং নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনরা বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবন ধসের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না এবং কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
২১৯ বার পড়া হয়েছে