শ্যামনগরে বাঁধ প্রকল্পে বাধা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৫ জন আসামি
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ৪:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) রাতে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য বলেও উল্লেখ রয়েছে। তার ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্প এলাকায় চাঁদা দাবি এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে আসছিল একটি পক্ষ। চাঁদা না দেওয়ায় চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালানো হলে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের ক্ষতির হুমকি দেন।
এরপর ২৩ মে দুপুরে কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে প্রকল্প সাইটে প্রবেশ করে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে আরও কয়েকজন শ্রমিকও হামলার শিকার হন। এ সময় প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ রয়েছে এবং আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমের আগে বাঁধ নির্মাণ শেষ না হলে উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়নের এই প্রকল্প ব্যাহত হলে আর্থিক ও ভাবমূর্তির ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, একাধিকবার বাধা ও হুমকির কারণে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কাজ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
১৭৮ বার পড়া হয়েছে