মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী রাজবাড়ীর তরুণ কাউসার
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ ৩:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা কাউসার আহমেদ এখন অনেক বেকার যুবকের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। কৃষিপ্রধান এলাকায় বেড়ে ওঠা কাউসারের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল কৃষিকে ঘিরে ভিন্নধর্মী কিছু করার। সেই স্বপ্ন আর পরিশ্রমের সমন্বয়ে আজ তিনি গড়ে তুলেছেন সফল মাশরুমভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “মাশরুমপল্লী”।
পাংশা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর বাবার চাকরির কারণে ঢাকার সাভারে চলে যান কাউসার। সেখানেই প্রথম পরিচয় হয় মাশরুম চাষের সঙ্গে। পরে তিনি সাভার মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেন। দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে তিনি পান ৭৫০ টাকা, একটি বড় ছাতা ও একটি প্লাস্টিক বক্স। ছোট এই প্রাপ্তিই তার উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
প্রথমদিকে বিভিন্ন পাইকারি দোকান থেকে মাশরুম সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে মানুষের কাছে মাশরুমকে পরিচিত করে তুলতে কাজ করতে থাকেন। একসময় অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “মাশরুমপল্লী” প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসার পরিধি বাড়ান কাউসার।
এরপর রাজবাড়ী কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গায় ১২ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে নিজ গ্রামে ফিরে গড়ে তোলেন আধুনিক মাশরুম ফার্ম।
বর্তমানে কাঁচা মাশরুমের পাশাপাশি মাশরুমের জ্যাম, জেলি, আচার, সুপ পাউডার ও শুকনো মাশরুম উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন কাউসার। তার লক্ষ্য দেশের প্রতিটি ঘরে সুপারফুড হিসেবে মাশরুম পৌঁছে দেওয়া।
কাউসার বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তাদের সহায়তা ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না।
তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে তিনজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজবাড়ী কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কর্মকর্তা নাঈম আহমেদ বলেন, কাউসারের আগ্রহ ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা দেখে তাকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তার সফলতা অন্য তরুণদেরও উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করছে।
তিনি আরও জানান, কৃষিভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে এবং দক্ষ উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে তারা বদ্ধপরিকর।
১২৫ বার পড়া হয়েছে