সর্বশেষ

সারাদেশ

আস্তে চালাতে বলেছিলাম, শোনেনি : বেঁচে ফেরা যাত্রী

কাজী রিপন, টাঙ্গাইল
কাজী রিপন, টাঙ্গাইল

সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
“হামাগো ব্যাটা মারা গেছে স্যার… আজকে এক জায়গাতেই সাত-আটটা লাশের কবর পড়বে”— কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত রবিউলের চাচা জাহিদুল।

ঈদের আনন্দ ঘিরে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন মুহূর্তেই রূপ নেয় শোকের মাতমে। টাঙ্গাইলের মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।

সোমবার ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের সরাতৈল এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের ওপর থাকা যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই ছিলেন নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের ক্ষুদ্র হকার। তারা বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ টাকার ছোটখাটো পণ্য বিক্রি করতেন। ঈদ উপলক্ষে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু অতিরিক্ত বাসভাড়ার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকেই যাত্রা করেছিলেন।

দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী আলমগীর বলেন, “আমরা খুব গরিব মানুষ। বাসভাড়া দুই-তিন হাজার টাকা। তাই ৩৫০ টাকায় ট্রাকের ওপর উঠেছিলাম। চালক খুব দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছিল। আমরা নিষেধ করলেও শোনেনি। পরে গাড়ি উল্টে রড আমাদের ওপর পড়ে যায়।”

দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া যাত্রী রব্বানী এখনও ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অসংলগ্ন কণ্ঠে তিনি বলেন, “গাড়িটা উল্টি মাইরা গেছে। আমি শুধু নিশ্বাস নেওয়ার জন্য ঘাস সরাইছি। আমার চাচা, ভাই, বন্ধু— সবাই মারা গেছে। ঈদে দেখা করার জন্য বাড়ি যাইতেছিলাম।”

নিহত রবিউলের চাচা জাহিদুল বলেন, “রবিউলের দেড় বছরের একটা সন্তান আছে। সে আর কোনোদিন বাবা ডাকতে পারবে না। আরেক ভাই পঙ্গু হয়ে গেছে। তারও দুই সন্তান। এখন লাশ নিতেও টাকা নাই। সরকারের সহযোগিতা চাই।”

নিহতদের স্বজনরা জানান, দারিদ্র্যের কারণেই তারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রাকে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হোক এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

একদিকে ঈদের আনন্দ, অন্যদিকে স্বজন হারানোর আহাজারি— টাঙ্গাইল মহাসড়কের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে দেশের সড়ক নিরাপত্তা ও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে। সামান্য ভাড়া বাঁচাতে গিয়ে ১৫টি পরিবার হারালো তাদের প্রিয় মানুষকে, থেমে গেল অসংখ্য স্বপ্নের পথচলা।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন