শ্যামনগরের খোলপেটুয়ায় নদীর চরে ভয়াবহ ভাঙন, ১০ গ্রামে আতঙ্ক
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মাদিয়া এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর প্রায় ২৫০ ফুট চর দেবে গিয়ে ব্যাপক ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে।
এতে বসতঘর ও জমি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় পশ্চিম দুর্গাবাটি, পূর্ব দুর্গাবাটি, মাদিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, বড়কুপট, ছোটকুপট, পশ্চিম পোড়াকাটলা, পূর্ব পোড়াকাটলা, ভামিয়া ও কলবাড়ি এলাকার আংশিকসহ মোট ১০ গ্রামের অন্তত ৩০০ পরিবার।
ভাঙনকবলিত এলাকার স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার ভোরে প্রথমে ওই চরের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট অংশ দেবে যায়। পরে শনিবার সকাল থেকে ভাঙনের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়ে প্রায় ২৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়। এতে পুরো এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষজন চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদিয়া এলাকার দুর্গাবাটী মন্দির সংলগ্ন নদীর চরে হঠাৎ করেই তীব্র ভাঙন শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে নদীর স্রোত ও জোয়ারের তীব্রতায় ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি নেতা রুস্তম আলী জানান, খোলপেটুয়া নদীর এই অংশ দিয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নীলকান্ত রপ্তান বলেন, দুর্গাবাটী মন্দির সংলগ্ন মাদিয়া এলাকায় যেভাবে নদীর চরে ভাঙন শুরু হয়েছে, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বহু এলাকা নদীর নোনা পানিতে তলিয়ে গিয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (শ্যামনগর পওর শাখা) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে সেখানে জিও ব্যাগ (জিও বস্তা) ডাম্পিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
১০৫ বার পড়া হয়েছে