সর্বশেষ

সারাদেশ

সালিশে ধর্ষণ অভিযোগ মীমাংসার চেষ্টা

নরসিংদীতে কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টা—আইসিইউতে সংকটাপন্ন

স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী
স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী

রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নরসিংদীর সদর উপজেলায় ধর্ষণ-সংক্রান্ত এক অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে মীমাংসার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর অপমান ও মানসিক চাপে এক কিশোরী সালিশ চলাকালেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হওয়া ওই কিশোরীর সঙ্গে একই এলাকার এক যুবকের পরিচয়ের সূত্র ধরে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক পর্যায়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খোকা, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ একাধিক নেতার উপস্থিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সেখানে একজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। সালিশ দরবারে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বিয়ের পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকায় মিমাংসা করার প্রস্তাব উঠায়। এ খবর কিশোরি জেনে দরবার চলাকালেই ঘরের দরজা আটকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহতার চেষ্টা করে । এসময় পরিবারের লোকজন ঘটনা বুঝতে পেরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে অজ্ঞান অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন । সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিওতে ভর্তি করা হয়। সেখানে কিশোরী জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে।

এ বিষয়ে জানতে পেরে সালিশ চলাকালেই কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

কিশোরীর মা অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ও নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি সমাধানের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে তার মেয়ে চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন মোল্লা দাবি করেন, তিনি স্বল্প সময়ের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে চলে যান। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সেখানে বিভিন্ন মতামত ওঠে এবং কিছু অংশে আর্থিক সমঝোতার আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে সালিশে উপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে চিনিশপুর ইউনিয়নের বিট অফিসার এস আই মো: ইসহাক মিয়ার বিরুদ্ধে। মোবাইল ফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, সালিশে আমি উপস্থিত ছিলাম না। সালিশে উপস্থিত ছিলেন এসআই ইউনুস। তবে সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এসআই ইউনুস। তিনি জানান, আমি ঘটনার খোঁজ খবর নিয়েছি। কিন্তু সালিশে ছিলাম না।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ কোনোভাবেই সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং কিশোরীর শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

২১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন