সর্বশেষ

সারাদেশ

সালিশে ধর্ষণ অভিযোগ মীমাংসার চেষ্টা

নরসিংদীতে কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টা—আইসিইউতে সংকটাপন্ন

স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী
স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী

শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ ১২:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নরসিংদীর সদর উপজেলায় ধর্ষণ-সংক্রান্ত এক অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে মীমাংসার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর অপমান ও মানসিক চাপে এক কিশোরী সালিশ চলাকালেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাশের শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হওয়া ওই কিশোরীর সঙ্গে একই এলাকার এক যুবকের পরিচয়ের সূত্র ধরে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক পর্যায়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে বিষয়টি আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে পেরে সালিশ চলাকালেই কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

কিশোরীর মা অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ও নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি সমাধানের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে তার মেয়ে চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে এক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেন, তিনি স্বল্প সময়ের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে চলে যান। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সেখানে বিভিন্ন মতামত ওঠে এবং কিছু অংশে আর্থিক সমঝোতার আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে, সালিশে পুলিশের উপস্থিতি ছিল কি না—এ নিয়ে ভিন্নমত পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ কোনোভাবেই সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং কিশোরীর শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

১০৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন