ফরিদপুরে সৎ মায়ের পর এবার নিজের মাকে হত্যা করল মাদকাসক্ত ছেলে
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের পৌর এলাকায় মাদকের টাকার জন্য নিজের জন্মদাত্রী মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘাতক আব্দুর রাহিম শেখ নামের এই যুবক ১০ বছর আগে নিজের সৎ মাকেও হত্যা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত ঘাতক ছেলে।
ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল আমান এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম সাহেলা বেগম (৫০)। তিনি বায়তুল আমানের মোল্লাডাঙ্গী এলাকার মৃত আকবর হোসেনের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে আব্দুর রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল এবং এলাকায় চোর হিসেবে পরিচিত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মায়ের কাছে মাদকের টাকা দাবি করে আব্দুর রাহিম। সাহেলা বেগম টাকা দিতে অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো বটি নিয়ে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর পর মা নিস্তেজ হয়ে পড়লে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতক ছেলে। এরপর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে নিজের সৎ মাকে হত্যা করেছিল আব্দুর রাহিম। সেই মামলায় দীর্ঘ ছয় বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসে সে। তবে কারাগার থেকে ছাড়া পেলেও কোনো কাজ করত না এবং সারাদিন মাদক সেবনে লিপ্ত থাকত। মাদক ক্রয়ের অর্থের জন্য সে এলাকায় ছোটখাটো চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিহত সাহেলা বেগমের মেয়ে কাকলী আক্তার জানান, তার ভাই রাহিম শেখ মাদকাসক্ত হয়ে প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইত এবং মারধর করত। বৃহস্পতিবার দুপুরেও টাকার দাবিতে বর্বরোচিতভাবে কুপিয়ে মাকে হত্যা করে সে।
কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত আব্দুর রাহিমের ঘর থেকে ফয়েল পেপার, মোমবাতি ও সিগারেটের প্যাকেটসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। পলাতক ঘাতক ছেলেকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে