জয়পুরহাটে ওএমএসের আটা আত্মসাৎ: ৩ খাদ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ৩:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জয়পুরহাটের কালাইয়ে গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ওএমএসের আটা আত্মসাৎ করার অভিযোগে তিন খাদ্য কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটি তদন্তের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খোলা বাজারে বিক্রি না করে বিপুল পরিমাণ আটা গোপনে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ডিলার না থাকায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজেই ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু সরকারিভাবে প্রতিদিন ২ মেট্রিক টন আটা বিতরণের কথা থাকলেও সুবিধাভোগীদের দেওয়া হতো মাত্র অর্ধেক। বাকি অর্ধেক আটা খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওএমএস কর্মসূচির চাল-আটা আত্মসাতের অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় দরিদ্র বাসিন্দারা।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলায় ওএমএস কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে ৫ দিন জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা মাত্র ২৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ২ মেট্রিক টন (৪০ বস্তা) আটা বিক্রয়কেন্দ্রে থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ২০ বস্তা রাখা হতো। ফলে রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়েও বহু দরিদ্র মানুষ শূন্য হাতে ফিরে যেতেন।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, আটা আত্মসাৎ ও অবহেলার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে