কুয়াকাটা সৈকতে ভাঙা কংক্রিট এখন মরণফাঁদ, পর্যটকরা আতঙ্কিত
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ ৬:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। সমুদ্রের ধ্বংসাবশেষ ও ভাঙা কংক্রিট ছড়িয়ে থাকায় জোয়ারের সময় তা পানির নিচে ডুবে যায়, ফলে পর্যটক, জেলে ও স্থানীয়রা নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত সিকদার রিসোর্টের ‘বিচ ক্লাব’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে তার ভাঙা কংক্রিট এখনো অপসারণ করা হয়নি।
কুয়াকাটা ইকোপার্ক, যা ২০০৫ সালে ঝাউবন এলাকায় ১,৬১৩ হেক্টর এলাকায় নির্মিত হয় এবং ২০১০ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়, তারও বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় ভাঙনে সমুদ্রে বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ এখনো সৈকত ও সমুদ্রের ভেতরে ছড়িয়ে রয়েছে।
স্থানীয় জেলে রহিম হাওলাদার জানান, “জোয়ার সময় ভাঙা কংক্রিট দেখা যায় না। জাল টানার সময় আঘাত পাই, হাত-পা কেটে যায়। এগুলো দ্রুত সরানো উচিত।”
পর্যটক গোলাম রাব্বানী বলেন, “পানির নিচে থাকা কংক্রিটে মাথায় আঘাত পেয়েছি। পুরো ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট হয়ে গেছে। এমন ঝুঁকি থাকলে মানুষ এখানে আসতে ভয় পাবে।”
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, “ভাঙা কংক্রিট ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক ‘ট্র্যাপ’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি শুধু জননিরাপত্তার নয়, পরিবেশের জন্যও হুমকি।”
বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক জানান, “পরিত্যক্ত কংক্রিট পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো কাউসার হামিদ বলেছেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কংক্রিট অপসারণের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
১১২ বার পড়া হয়েছে