সর্বশেষ

সারাদেশ

কোটালীপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ১৪তম সুকান্ত মেলা শুরু

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ১৪তম সুকান্ত মেলা।

কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক প্রেমীদের মধ্যে মেলাকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কবি সুকান্তের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর রচিত বইয়ের পরিধি বাড়ানো এবং অডিটরিয়ামটিকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিকপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, এতে নতুন প্রজন্ম কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।

কবি সুকান্তের কবিতা “ছাড়পত্র”-এর একটি অংশ—
“যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে, তার মুখে খবর পেলুম: সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক, নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার”—এভাবে তাঁর কবিতায় অধিকার ও সমাজচেতনার বার্তা ফুটে উঠেছে।

গত বুধবার (১৩ মে) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

উদ্বোধনের পর সন্ধ্যায় কবি সুকান্তের প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন প্রধান অতিথি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী এবং জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান।

পরে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান, কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক।

সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও দুপুর থেকেই মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। কবি ভক্ত, সাংস্কৃতিকপ্রেমী ও স্থানীয়দের পদচারণায় উনশিয়া গ্রামের কবির পৈতৃক ভিটা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

সুকান্ত মঞ্চে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা কবি সুকান্তের কবিতা, গান, নাচ ও নাটক পরিবেশন করেন। পাশাপাশি আবৃত্তি, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। মেলায় বসেছে গ্রামীণ মেলাও। পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

আগামী শুক্রবার এ মেলা শেষ হবে। শেষ দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

মেলা দেখতে আসা হৃদয় শেখ বলেন, “উনশিয়া গ্রামে কবি সুকান্ত মেলা হচ্ছে শুনে দেখতে এসেছি। দেখে খুব ভালো লাগছে। তবে কবির পৈতৃক বাড়িকে ঘিরে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছি।”

অপর দর্শনার্থী মিমি বিশ্বাস বলেন, “এবারের মেলায় কবি সুকান্তের বই নিয়ে কোনো স্টল নেই। এমন একজন কবির মেলায় তাঁর লেখা বই না থাকা দুঃখজনক। আমরা চাই মেলায় বইয়ের স্টল দেওয়া হোক এবং বইয়ের সংখ্যাও বাড়ানো হোক।”

স্থানীয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলু বলেন, কবি সুকান্ত কেবল একজন কবি নন, তিনি একজন অনন্য দ্রষ্টা। তিনি নিপীড়িত মানবতার মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তবে তাঁর জন্মদিনেও আয়োজন থাকা উচিত। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু দিবস জাতীয়ভাবে পালনের দাবি জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আদর্শ বর্তমান যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে কবি সুকান্তকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, মেলাটিকে আরও প্রাণবন্ত করতে ভবিষ্যতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কবি সুকান্ত শোষিত মানুষের পক্ষে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে কবিতা লিখেছেন। তাঁর প্রতিটি কবিতায় প্রতিবাদের সুর ছিল। বর্তমান সরকার তাঁর চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, কবি সুকান্ত মেলাকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন