সর্বশেষ

সারাদেশ

শেরপুরে পাহাড়ি গরুর চাহিদা বাড়ছে, প্রস্তুত আছে ১৫ হাজার

মহিউদ্দিন সোহেল, শেরপুর
মহিউদ্দিন সোহেল, শেরপুর

বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ ৯:২১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শেরপুরে আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পাহাড়ি গরুর চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় খামারি ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব গরু মোটাতাজা করতে কোনো ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। ফলে স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের মধ্যে পাহাড়ি গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি।

শেরপুর জেলার সীমান্তঘেঁষা তিনটি উপজেলা—শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী—গারো পাহাড়বেষ্টিত এলাকা। এসব অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিনির্ভর। প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানিকে সামনে রেখে এসব এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার পাহাড়ি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।

খামারিদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস, লতাপাতা ও খোলা চারণভূমি থাকায় গরু পালনে আলাদা খাদ্য বা অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। এতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় খামারিরা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছেন।

প্রতিদিন ভোরে খামারিরা দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ে গরু চরাতে যান। সারাদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাহাড়ি চারণভূমি ও উঁচু-নিচু ঢালে গরু ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে। সন্ধ্যায় গরু নিয়ে তারা বাড়ি ফেরেন। খামারিদের দাবি, সবুজ ঘাস, নির্মল বাতাস ও খোলা পরিবেশে লালিত এসব গরু কোরবানির জন্য ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ। এসব গরুর মাংস যেমন নিরাপদ, তেমনি স্বাদেও ভিন্নতা রয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় শুধু শেরপুর নয়, জেলার বাইরের পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারাও এসব গরু কিনতে আসেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩ হাজার ৭৩১ জন খামারি রয়েছেন। অনেক পরিবার গরু, মহিষ ও ছাগল পালনের সঙ্গে যুক্ত। এবার কোরবানির জন্য জেলায় মোট ৯১ হাজার ৭৩৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে জেলার চাহিদা ৬৩ হাজার ৭৪০টি পশু। ফলে অতিরিক্ত পশু বাইরের হাটবাজারেও বিক্রি হবে।

এছাড়া সীমান্তবর্তী তিন উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার গরু পালন করা হচ্ছে, যার সঙ্গে প্রায় ২ হাজার পরিবার জড়িত।

জেলায় কোরবানিযোগ্য গরু ও মহিষের সংখ্যা ৬০ হাজার ৩২৭টি এবং ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৩১ হাজার ৪১১টি। জেলার ২৪টি অনুমোদিত হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সনদ যাচাই, হটলাইন এবং কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোরবানি নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী বালিঝুড়ি এলাকার বাসিন্দা সিসিন মারাক বলেন, “সারাদিন কষ্ট করে গরু পালন করি। যদি ভারতীয় গরুর কারণে দাম না পাই, তাহলে আমাদের পরিশ্রম সবই বৃথা যাবে।”

নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা এলাকার কৃষক মিজান মিয়া বলেন, “প্রতিবছর ঈদের জন্য দেশি গরু পালন করি। এবারও সাতটি গরু বিক্রি করব। আমাদের গরুর মাংস অনেক সুস্বাদু। ফার্মের গরুর সঙ্গে এর আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বাজারে আমাদের গরুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া জানান, পাহাড়ি এলাকার গরুগুলো সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ এসব গরু মোটাতাজা করতে কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। ফলে এসব গরুর চাহিদা বেশি। ইতোমধ্যে অনেক পাইকার পাহাড়ি এলাকা থেকে গরু কিনে নিয়ে গেছেন। স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতারাও এসব গরু বেশি পছন্দ করছেন।

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় গরু চোরাচালান বন্ধে প্রশাসন কাজ করছে। অবৈধ পথে গরু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠকও করা হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন