পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষেধ, দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত
বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ ৭:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
নতুন এই নির্দেশনায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের গবাদি পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষসহ কোনো পশু জবাই করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষরিত সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই বৈধ বলে গণ্য হবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জবাইয়ের জন্য বিবেচিত পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কর্মক্ষমতার অনুপযোগী হতে হবে। এছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা কিংবা অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণেও কঠোরতা আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা অথবা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানে জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ খোলা স্থানে পশু জবাই করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিয়ম বাস্তবায়ন তদারকির জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি অথবা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তাদের যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।
শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, নতুন আইনের যেকোনো ধারা লঙ্ঘন করলে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস-কে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারী-র জয় এবং নতুন সরকারের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে