যানজট ও চাঁদাবাজি বন্ধে ট্রাফিক ব্যবস্থার সংস্কারে দাবি
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যানজট ও চাঁদাবাজি মুক্ত করতে পুলিশ বিভাগের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ট্রাফিক পুলিশকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং পরিবহন খাতে সক্রিয় মাফিয়াদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “পবিত্র ঈদুল আজহার আগে যানজট নিরসন ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের করণীয়” শীর্ষক এক নাগরিক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুজ্জামান এবং সঞ্চালনা করেন ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হারুন-অর-রশিদ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া এবং জিয়া সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)-এর চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, নবোদয় প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাই স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদারসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থায় দক্ষ জনবলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ঠিক এই সময়েই বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) এবং টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) পদে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বৈষম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাহিনীর অন্যান্য পদে পদোন্নতির হার সন্তোষজনক হলেও ট্রাফিক বিভাগের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতির হার অত্যন্ত নগণ্য।
বক্তারা আরও বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যেমন দক্ষ জনবল প্রয়োজন, তেমনি কর্মরতদের কাজের আগ্রহ ও মনোবল বজায় রাখতে সময়মতো পদোন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। এই বৈষম্য দূর না হলে দীর্ঘমেয়াদে ট্রাফিক বিভাগ দক্ষ নেতৃত্ব সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪ হাজার এএসআই (নিরস্ত্র) শূন্য পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার পদ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে এবং বাকি ২ হাজার পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে আরও ৪ হাজার এসআই সরাসরি নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২০২৪–২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুলিশের বিভিন্ন শাখায় পদোন্নতির হার উল্লেখযোগ্য ছিল। কনস্টেবল বা নায়েক থেকে এএসআই (নিরস্ত্র) এবং নায়েক থেকে এএসআই (সশস্ত্র) পদে প্রায় শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাফিক বিভাগে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তথ্যমতে, বর্তমানে এটিএসআই পদে ৫৫৯ জন এবং টিএসআই পদে ৬০ জন সদস্য বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক সদস্য উত্তীর্ণ হলেও মাত্র ৩০ জন এটিএসআই এবং ৫ জন টিএসআইকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট উত্তীর্ণ পদের তুলনায় অত্যন্ত কম।
দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত থাকায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে মানসিক চাপ ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এটিএসআই জানান, “সব বিভাগে প্রায় শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া হলেও আমাদের ক্ষেত্রে কেন এই বঞ্চনা, তা বোধগম্য নয়। আমরা দিনরাত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজপথে দায়িত্ব পালন করি, অথচ প্রাপ্য সম্মান ও পদোন্নতি থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।”
১২৪ বার পড়া হয়েছে