সর্বশেষ

সারাদেশ

কুষ্টিয়ার খাজানগর-কবুরহাটে রাইস মিলের দূষণে বিপর্যস্ত জনজীবন, হুমকিতে জিকে ক্যানেল ও কৃষি

স্টাফ রিপোর্টার, কুষ্টিয়া
স্টাফ রিপোর্টার, কুষ্টিয়া

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:০৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার খাজানগর-কবুরহাট এলাকায় গড়ে ওঠা শত শত অটো ও হাসকিং রাইস মিলের ধোঁয়া, উড়ন্ত ছাই এবং শিল্পবর্জ্যে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি, জনস্বাস্থ্য এবং গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) ক্যানেলের পানির মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার খাজানগর, কবুরহাট, কদমতলা, আইলচারা ও পোড়াদহ এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় ৩০০ অটো ও হাসকিং রাইস মিলের কার্যক্রমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মিলগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, উড়ন্ত ছাই এবং বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশের পাশাপাশি কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের প্রায় পুরো সময়ই বাতাসে ছাই উড়তে থাকে। ঘরের ভেতর, খাবারের টেবিল, উঠান এমনকি পানির পাত্রেও ছাই জমে যায়। এতে শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।

খাজানগরের বাসিন্দা শাহানাজ পারভীন বলেন, রান্না করার আগেই খাবারের ওপর ছাই পড়ে যায়। টেবিলে খাবার রেখে দিলেও অল্প সময়ের মধ্যে ছাই জমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেনের অভিযোগ, কয়েকটি রাইস মিল বছরের পর বছর এলাকায় পরিবেশ দূষণ করছে। তাঁর দাবি, কিছু মিলের বর্জ্য সরাসরি গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) ক্যানেলে ফেলা হচ্ছে, যা পানি দূষণের অন্যতম কারণ।

এলাকার শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার মুন্নী জানান, বাতাসে উড়ে আসা ছাইয়ের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলায় ৬০টির বেশি অটোরাইস মিলের মধ্যে অন্তত ১০টির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই এবং আরও ২৫ থেকে ৩০টির ছাড়পত্রের নবায়ন হয়নি। এছাড়া প্রায় ২৫০টি হাসকিং মিলের অনেকগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, মিলের দূষিত পানি জিকে ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে প্রবেশ করে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকদের অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল কাশেম বলেন, আগের তুলনায় জমিতে উৎপাদন কমে গেছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পবর্জ্য জিকে ক্যানেলে পড়ায় অনেক স্থানে পানির রং পরিবর্তিত হয়েছে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সেচব্যবস্থা ও পরিবেশ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সচেতন নাগরিক নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে দাদা রাইস মিলের মালিক হাজী আরশাদ আলী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার এবং এ বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আহাদ এগ্রোফুডের পরিচালক আহাদ বলেন, অভিযোগ করা হলেও তাঁদের মিল থেকে ছাই উড়ানো হয় না।

কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়নাল আবেদিন পরিবেশ দূষণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় মিল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান জানান, জিকে ক্যানেল রক্ষায় আইনগত সহযোগিতা চেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইমদাদুল হক বলেন, তদন্তে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মবহির্ভূত রাইস মিলগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জিকে ক্যানেলকে দূষণমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

১১৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন