হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন উচ্চতায়
শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ৩:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব ও হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হামলাকে “লাভ ট্যাপ” বা “হালকা আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের খতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহায়তায় ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে “আগ্রাসী ও সন্ত্রাসী শক্তি” আখ্যা দিয়ে বলা হয়, তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানি ট্যাংকারে হামলা করেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের পাল্টা অভিযানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক মিসাইল, অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালায় বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সেন্টকমের ভাষ্য, ইরানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পক্ষের দাবি, তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি জাহাজ জব্দ ও নৌ অবরোধ জোরদারের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রথম বড় সামরিক প্রতিক্রিয়া। গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানি হামলার মুখে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং ইরানের ছোড়া মিসাইল ও ড্রোন সহজেই ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং ইরানি হামলাকারীরাই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। যদিও যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলমান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে