রংপুরে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, এলাকায় আতঙ্ক
বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার রাতে সংঘটিত এসব ঘটনায় একজন কৃষক ও একজন গরুর খামারি নিহত হয়েছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতারও করা সম্ভব হয়নি।
পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের বড় উমরপুর এলাকায় কৃষক মফিজার রহমানকে পিটিয়ে হত্যা করে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমজাদ হোসেনের ছেলে মফিজার রহমান ও এলাকার কয়েকজন কৃষক মিলে নিজেদের জমিতে বোরো ধান চাষ করতেন। সেখানে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার স্থাপন করে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম চালানো হতো। নিয়মিতভাবে তিনি রাতে নলকূপ পাহারা দিতেন।
বুধবার রাতেও তিনি নলকূপ পাহারায় যান। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা নলকূপের ঘরে গিয়ে দেখতে পান, তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ পড়ে আছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ট্রান্সফরমার লুট করে নিয়ে গেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই আবুল কাশেম জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পীরগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
মিঠাপুকুর উপজেলায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে পরবর্তীতে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়। নিহত ব্যক্তি হলেন আবু সাঈদ (পিতা: আজগর আলী), যিনি উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের উঁচা বালুয়া বালাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন গরুর খামারি ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় আবু সাঈদ শাল্টির বাজারে যান এবং রাত ৮টার দিকে তার চাচা বিপুল মিয়ার সঙ্গে শেষ কথা বলেন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
বৃহস্পতিবার সকালে ময়েনপুর ইউনিয়নের একটি আমবাগানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহের গলায় ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে জবাই করে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে।
মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনারই তদন্ত চলছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে