সর্বশেষ

সারাদেশ

বিয়ের তিনদিনেই তালাক: গাইবান্ধায় ভুয়া কাজী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কায়ছার প্লাবন, গাইবান্ধা
কায়ছার প্লাবন, গাইবান্ধা

বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকায় বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় ব্যাংকে ডিপিএস খোলার কথা বলে স্ত্রীকে তালাকনামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে কচুয়া পাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে চম্পা খাতুনের সঙ্গে শ্রীরামপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে কুদ্দুস মিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের তিন দিন না যেতেই স্বামী কুদ্দুস মিয়া ব্যাংকে ডিপিএস খোলার অজুহাতে স্ত্রীর কাছ থেকে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী চম্পা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামী কুদ্দুস মিয়া, শ্বশুর, স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য এবং নলডাঙ্গা ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হামিদ কাজীর সহযোগিতায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক কথিত কাজীর মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে ফোনে জানানো হয় তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর চম্পা খাতুন জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বৈধ কাজী আব্দুল হামিদ, স্বামী কুদ্দুস মিয়া, তার বাবা এবং দুই সাক্ষীসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

আদালতে হাজির হলে ২৯ এপ্রিল গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত, সাদুল্লাপুর) পাপড়ি বড়ুয়া বৈধ কাজী আব্দুল হামিদ, কুদ্দুস মিয়া, তার বাবা এবং দুই সাক্ষীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে কথিত কাজী সাজ্জাদ হোসেন বৈধ কাজী না হওয়ায় আইনের ফাঁক গলে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সাজ্জাদ হোসেন ২০২১ সাল থেকে কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়া নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রির কাজ করে আসছেন এবং বৈধ কাজী আব্দুল হামিদের রেজিস্টার বই ব্যবহার করে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালা লঙ্ঘন করে নির্ধারিত এলাকার বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা ও সহকারীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বই ব্যবহারের কারণে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।

তদন্তে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত বৈধ কাজী আব্দুল হামিদ পাশের ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করলেও নিজে কাজ না করে তার রেজিস্ট্রি বই সাজ্জাদ হোসেনের হাতে দেন। অভিযোগ রয়েছে, সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ সনদ ছাড়াই বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী চম্পা খাতুন বলেন, “ডিপিএস খোলার কথা বলে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি জানতাম না এটা তালাকের কাগজ। সাজ্জাদ কাজী ও মেম্বাররা মিলে জোর করে এই কাজ করেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”

তার মা জাহানারা বেগম বলেন, “বিয়ের তিন দিন পরেই মেয়েকে বাড়িতে দেখি। পরে জানতে পারি তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে।”

বাবা চাঁন মিয়া বলেন, “আমি কিছুই জানতাম না। আমার মেয়েকে প্রতারণা করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি বিচার চাই এবং দেনমোহরের টাকা ফেরত চাই।”

অন্যদিকে স্বামী কুদ্দুস মিয়ার মা খতেজা বেগম দাবি করেন, মেয়েই সংসার করতে চায়নি এবং সে নিজেই তালাক দিয়েছে।

ভূয়া কাজী সাজ্জাদ হোসেন নিজেকে সহকারী কাজী দাবি করে বলেন, “আমি ২০২১ সাল থেকে কাজ করছি। ওইদিন ভুল হয়েছিল, বাবা-মাকে ডাকা উচিত ছিল। মেয়েটি নিজেই স্বাক্ষর দিয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে ও তালাক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং প্রতিটি ঘটনায় বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা রেজিস্ট্রার জহুরুল ইসলাম বলেন, “লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজী ছাড়া কেউ বিয়ে বা তালাক রেজিস্ট্রি করতে পারে না। অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন