সর্বশেষ

সারাদেশ

ফেসবুকে ‘জিনের মাধ্যমে সমাধান’ প্রতারণা: রাজশাহীতে ১ প্রতারক গ্রেপ্তার

মুরাদুল ইসলাম সনেট, রাজশাহী
মুরাদুল ইসলাম সনেট, রাজশাহী

বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ৯:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজশাহীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘জিনের মাধ্যমে দাম্পত্য সমস্যা সমাধান’ করার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভুক্তভোগী শ্যামলী আক্তার মৌসুমী (৩২) গত ১৯ এপ্রিল রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৫ মে র‍্যাব-৫ এর একটি দল কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্য তপু আকুন্জি (৪৮) কে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তার তপু আকুন্জি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার ইসলামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে বিয়ে হলেও দাম্পত্য কলহের কারণে ভুক্তভোগী স্বামীর সঙ্গে আলাদা বসবাস করছিলেন। চলতি বছরের ১ এপ্রিল ফেসবুকে “মাওলানা আব্দুর সিদ্দিকুর রহমান” নামের একটি আইডিতে দাম্পত্য সমস্যা সমাধানের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি যোগাযোগ করেন।

এরপর প্রতারকরা ‘জিনের মাধ্যমে সমাধান’ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, এমনকি গোপন ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে। পরে বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে একাধিক নম্বরে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয় তাকে। কখনো ‘নূর জাহান পাথর’, কখনো ‘দাফনের কাপড়’ ও ধর্মীয় সামগ্রী কেনার কথা বলে ধারাবাহিকভাবে অর্থ আদায় করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে রাজশাহীর মেহেরচণ্ডি ফ্লাইওভার এলাকায় স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে যেতে বলা হয়। সেখানে পূর্বনির্ধারিত এক ব্যক্তির কাছে তিনি প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার এবং ৮০ হাজার টাকা নগদ তুলে দেন। এভাবে মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।

ঘটনার পরও প্রতারণা থেমে থাকেনি। আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া হয়। না দিলে তার ছবি বিকৃত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা বাড়ছে। এ ধরনের ফাঁদ থেকে বাঁচতে সচেতন থাকার এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

১৭৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন