কিশোরগঞ্জে নতুন করে তলিয়েছে আড়াই হাজার হেক্টর ধানের জমি
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ ৭:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নতুন করে আরও প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এতে জেলার ৮টি উপজেলার মোট ১২ হাজার ৫২২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওর এলাকায়। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৬ জনে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সূর্যের দেখা মিললেও ভোর থেকেই কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে। পানির নিচে নেমে ধান কাটার পাশাপাশি মাড়াই ও শুকানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন রোদ না থাকায় ইতোমধ্যে শত শত মণ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলের কারণে হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পাকা ধানের জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করে ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের।
নিকলী হাওরের কৃষক আলতু মিয়া বলেন, “অনেক দিন পর রোদ পেয়েছি। ভোরে উঠে ভেজা ধান রোদে দিয়েছি। কয়েক দিন এমন রোদ থাকলে বাকি ধান কেটে শুকাতে পারব।”
করিমগঞ্জের বড় হাওরের কৃষক জমির আলী জানান, “বৃষ্টির কারণে মাড়াই করা প্রায় ৮০ মণ ধান পচে গেছে। এখন পানি বাড়ছে, তাই পানিতে নেমেই ধান কাটছি। রোদ থাকলে অন্তত বাকি ধান শুকাতে পারব।”
মিঠামইন উপজেলার জিউলের হাওরের কৃষক রহিম মিয়া বলেন, “প্রতি শ্রমিককে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দিয়ে ধান কাটাচ্ছি। আল্লাহ জানেন সামনে কী আছে। কয়েক দিন রোদ থাকলে অন্তত বাকি ধান ঘরে তুলতে পারব।”
নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যাতে প্রকৃত কৃষকরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।”
১৩৬ বার পড়া হয়েছে